গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন

jugantor
গাজীপুর প্রতিনিধি | প্রকাশ : ৩০ আগস্ট, ২০১৬ ০৯:০১:১৪
গাজীপুরে গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়েছে স্বামী, শাশুড়ি ও ভাসুর।
নির্যাতিত গৃহবধূর নাম এনি আক্তার (৩৩)। স্বামীর পরিবারের সদস্যদের অমানুষিক নির্যাতনে গৃহবধূ এনির রক্তে লাল হয়ে ওঠে ঘরের বারান্দা ও বাড়ির উঠান। এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে মৃত ভেবে বাড়িঘরে তালা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় নির্যাতনকারীরা। যাওয়ার সময় পানি ঢেলে রক্ত মুছে দেয়ার চেষ্টা করে। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে এনির বাবা-মা উঠানে রশিতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এনিকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এনির বাবা মজিবর রহমান ও স্থানীয়রা জানান, চার বছর আগে এনির সঙ্গে বিয়ে হয় কাথোরার হাবিব উল্লাহ মাস্টারের ছেলে খায়রুল ইসলামের। এনির পরিবার অস্বচ্ছল থাকায় এ বিয়েতে খায়রুলের পরিবারের সম্মতি ছিল না। বিয়ের পর থেকেই এনিকে তালাক দেয়ার জন্য খায়রুলকে চাপ দিচ্ছিলেন তার মা রেহেনা বেগম ও বড় ভাই মঞ্জু। পরিবারের চাপে খায়রুল এনিকে তালাক দিলেও ক’দিন পরে আবার ৭ লাখ টাকার দেনমোহরে তাকে পুনরায় বিয়ে করেন। এ ঘটনায় খায়রুলকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকেও বঞ্চিত করা হয়। দেড় বছর আগে তাদের একটি মেয়ে হয়। এতে এনির ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এনিকে নিয়ে পৃথক সংসার করার কথা বলে খায়রুল গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। পরে ওই বাসায় এনিকে রেখে খায়রুল গা ঢাকা দেয়। এনি ও তার স্বজনরা খায়রুলকে গুম করেছে বলে থানায় অভিযোগ দেয় খায়রুলের পরিবার। পরে এনির পরিবার পুলিশের সহযোগিতায় খায়রুলকে সাভার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে আটক করে। ওই বাড়িতে খায়রুলের মা রেহেনা বেগমও অবস্থান করছিল। পরে স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে খায়রুলকে জেল থেকে জামিনে বের করা হয়। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সালিশে দেনমোহর ও খোরপোষ বাবদ ৮ লাখ ৫ হাজার টাকায় তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। খায়রুলের পরিবার নগদ টাকার পরিবর্তে দুই কাঠা জমি এনিকে রেজিস্ট্রি করে দিতে সম্মত হয়। সোমবার জমি বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলে এনি আক্তারকে খায়রুলদের বাড়িতে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চালানো হয়। জয়দেবপুর থানার ওসি খন্দকার রেজাউল হাসান রেজা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেয়া হলে মামলা নেয়া হবে।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর, ৩০ আগস্ট, ২০১৬

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s