নেত্রকোনায় গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

prothom alo
ধরমপাশা (সুনামগঞ্জ) ও পিরোজপুর প্রতিনিধি | আপডেট: ০০:৪৯, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ | প্রিন্ট সংস্করণ
যৌতুক না দেওয়ায় নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌরসভায় এক গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত সোমবার রাতে মামলা হয়েছে। যৌতুকের দাবি মেটাতে না পেরে একই রাতে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। মোহনগঞ্জে নিহত গৃহবধূর নাম রুমা আক্তার (২৫)। তিনি সাতুর এলাকার লালন শাহের স্ত্রী। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় গতকাল মঙ্গলবার লালন, তাঁর বোন লাভলি আক্তার ও ভগ্নিপতি বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মোহনগঞ্জ থানা-পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, দু-তিন বছর আগে বিরামপুর গ্রামের মন্নাফ মিয়ার মেয়ে রুমা আক্তারের সঙ্গে লালন শাহের বিয়ে হয়। কিছুদিন ধরে একটি ইজিবাইক কেনার জন্য লালন ও তাঁর পরিবারের লোকজন রুমাকে বাবার বাড়ি থেকে এক লাখ টাকা আনার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এতে রুমা রাজি হননি। এর জের ধরে শনিবার রাত নয়টার দিকে লালন ও তাঁর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে রুমার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে লালন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা রুমার হাত বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। স্থানীয় লোকজন রুমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরদিন সকালে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে তিনি মারা যান। রুমার চাচা আবুল কাশেম বলেন, ‘যৌতুক দিতে না পারায় লালন ও তাঁর পরিবারের লোকজনদের হাতে ভাতিজিকে প্রাণ হারাতে হলো। এর শাস্তি চাই।’ মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর তিনজনকে ধরার চেষ্টা চলছে।

যৌতুক দিতে না পেরে আত্মহত্যা!
এদিকে নাজিরপুরে মারা যাওয়া গৃহবধূ হলেন ফাতেমা আক্তার (২১)। তিনি উত্তর কলারদোয়ানিয়া গ্রামের পোশাক ব্যবসায়ী আকতার হোসেনের স্ত্রী। ফাতেমা কলারদোয়ানিয়া গ্রামের আবদুর রহিম বাহাদুরের মেয়ে।ফাতেমা আক্তারের ভাই মোস্তাকিম বাহাদুর বলেন, গত বছর ফাতেমার সঙ্গে আকতার হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর আকতার ফাতেমাকে যৌতুক এনে দিতে বলেন। না দিতে পারায় তাঁকে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করা হতো। সহ্য করতে না পেরে এক মাস আগে ফাতেমা বাবার বাড়ি আসেন। সোমবার রাতে আকতার শ্বশুরবাড়ি এসে ফাতেমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। রাতে ফাতেমা বিষ পান করেন। রাত দুইটার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল সকালে লাশ উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। ঘটনার পর আকতার হোসেন আত্মগোপনে থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁর মুঠোফোনটিও বন্ধ। আকতার হোসেনের ভাই মো. খোকন বলেন, যৌতুকের কারণে নয়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির কারণে ফাতেমা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। নাজিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাসেল সরোয়ার বলেন, অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। যৌতুকের অভিযোগ কেউ করেননি। করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো,২১ ডিসেম্বর, ২০১৬

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s